পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে স্পেসএক্সকে টক্কর দেয়ার প্রস্তুতি চীনের

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়েছে চীন।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত মহাকাশ প্রতিষ্ঠান সফলভাবে একটি লং মার্চ অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। একই সঙ্গে রকেটের বুস্টারটি সমুদ্রের একটি উদ্ধারকারী জাহাজে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি। স্পেসএক্সের পর বিশ্বের দ্বিতীয় কোনো দেশ হিসেবে এ সাফল্য দেখাল চীন। খবর টেকক্রাঞ্চ।

গত শুক্রবার পরিচালিত এ পরীক্ষাকে চীনের মহাকাশ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে মহাকাশে উপগ্রহ ও অন্যান্য যান পাঠানোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন (সিএএসসি) জানায়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বুস্টারটি পুনরায় উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে। রকেটটির বহনক্ষমতা স্পেসএক্সের বহুল ব্যবহৃত ফ্যালকন ৯ রকেটের কাছাকাছি।

ফ্যালকন ৯ রকেট ল্যান্ডিং লেগ বা পায়ার ওপর ভর করে ভাসমান প্লাটফর্মে অবতরণ করে। অন্যদিকে চীন একটি উদ্ধারকারী জাহাজের ওপর বড় ফ্রেমের সঙ্গে জাল বিছিয়ে রেখেছিল। নামার সময় রকেটের বুস্টারটি সে জালের সাহায্যে আটকে ফেলা হয়।

বর্তমানে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইলোন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির ফ্যালকন ৯ বহর প্রতি বছর নতুন উৎক্ষেপণ রেকর্ড গড়ছে। রকেটটির ওপর নির্ভর করছে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের বিভিন্ন মিশনেও এ রকেট ব্যবহার হচ্ছে।

সিকিউর ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের মহাকাশ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিভাগের প্রধান ভিক্টোরিয়া স্যামসন এ সাফল্যকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, চীন যদি নিয়মিতভাবে একই রকেট পুনর্ব্যবহার করতে পারে, তাহলে উৎক্ষেপণের ব্যয় অনেক কমে যাবে। তখন দেশটি স্বল্প খরচে মিত্র দেশগুলোর জন্যও মহাকাশ উৎক্ষেপণ সেবা দিতে পারবে।

সাধারণ রকেট একবার মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এর বুস্টার বা প্রধান অংশ সমুদ্রে বা নির্ধারিত স্থানে পড়ে যায় এবং তা আর ব্যবহার করা যায় না। ফলে প্রতিটি উৎক্ষেপণের জন্য নতুন রকেট বা নতুন বুস্টার তৈরি করতে হয়, যা অনেক ব্যয়বহুল। অন্যদিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটে বুস্টারটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ফের পৃথিবীতে নিরাপদে ফিরে আসে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মেরামতের পর সেটি আবার উৎক্ষেপণ করা যায়। ফলে একই রকেটের অংশ একাধিকবার ব্যবহার সম্ভব হয় এবং মহাকাশে উপগ্রহ বা অন্যান্য যান পাঠানোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

আরও